কে আমি
পূর্ণতা রায়

১২ জানুয়ারী ২০১৯



আমি একজন বাংলাদেশী। আমি খুব সুন্দরী আর মিষ্টি নারী হয়ে যেতে চাই। আমি এটা অনুভব করি ছোট বেলা থেকে, যখন থেকে আমি কিছুটা বুঝতে শিখেছি। তখন প্রথম শ্রেনীতে পড়তাম। একটা ছবির পোস্টার দেয়ালে চোখে পড়লে, আমি চিন্তা করতাম আমি কিভাবে নায়িকাদের মতো সুন্দরী হব। নায়ককে দেখে মনে হত, একটা ছেলে পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু নায়কের ভূমিকা আমাকে টানতো না। আমার অনুভবে আসতো না। কারও বাসায় বেড়াতে গেলে মেয়েদের প্রসাধনী চুরি করে মুখে মাখতাম।

যখন আরেকটু বড় হলাম, তখন বন্ধুদের দেখে মিথ্যা নায়ক সাজার অনেক অভিনয় করতাম। সাহরুখ খান, হৃত্বিক রোশনকে দেখে আমি যতই নায়ক সাজার অভিনয় করেছি, মনের মধ্যে অনুভব করতাম আমি বুঝি ভিন্ন গ্রহের কেউ। আমার শরীর তো এটা নয়। প্রতি মুহূর্তে অনুভব করতাম, আমার পুরো শরীর একজন মেয়ের কিংবা নারীর। যত বড় হচ্ছি মনে হত এটা বোধহয় ঈশ্বরের একটা অভিশাপ। আমি খুব পাপী কেউ। স্নান কক্ষে ঝর্ণা ছেড়ে খুব কাঁদতাম। মনের মধ্যে প্রশ্ন ঘুরপাক খেতো সব সময় এমনটা কেন হবে?

খুব বেশি টানাটানি করতাম, পুরুষাঙ্গ ছিঁড়ে ফেলার জন্য। মনে হত ওটা ছিঁড়ে ফেলে দিলেই বুঝি নারী হয়ে যেতে পারবো। অনেক সময়ে ঘুমের আগে ওটা ভিতরের দিকে দিয়ে চামড়ায় কিছু একটা দিয়ে বেঁধে ঘুমিয়ে পড়তাম। আর প্রার্থনা করতামঃ "ঈশ্বর, তুমি যদি থেকে থাকো আর আমার মনটা বুঝে থাকো, তবে ঘুম থেকে উঠেই যেন নিজেকে নারী আবিষ্কার করি"। তা আর হয় নি কখনও। বরং এসব কিছু দিন করার পর জায়গাটাতে বেশ ব‍্যথা অনুভব করতাম।

কথাগুলো সব সময়ে চেপেই রেখেছি। কাউকে বিষয়টা নিয়ে বলার সাহস হয় নি। আর লজ্জার বিষয়টা তো আছেই। ২০১৮ সালে এসে এগুলো নিয়ে গুগলে খুব অনুসন্ধান করতে লাগলাম, যেটা আরও আগেই করা উচিত ছিল। কিন্তু এখন ভালভাবেই বুঝতে পারলাম, আমার ভেতরে কোন খারাপ শয়তান প্রবেশ করেনি। এটা একটা প্রাকৃতিক বিষয়। কিন্তু আমার নারী হবার ইচ্ছাটা কি পূরন হবে? নাকি এসব ভাবতে ভাবতে এভাবেই একদিন মারা পড়বো? কথাগুলো খুলে বলবার জন্য সভ্য সমাজের কাছে আমি কি কলঙ্কিত পরুষ?





-----------------------------------------------------
তালিকায় ফিরে যান
মূল পাতা
আমাদের সম্বন্ধে
সম্পাদকের বক্তব্য
তথ্য ভান্ডার
সৃজনশীলতা
সংবাদ
স্মৃতি চারণ
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
জরুরী আবেদন
নিবন্ধ
দন্ডবিধি