আহাম্মকি বন্ধ কর
নীলয় নীল

২৭ অক্টোবর ২০১৮

"নব প্রভাত" -এ আমাদের লক্ষ্য ছিল সমকামীদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাদেরকে এটা বুঝানো যে সমকামিতা পাপ কিংবা অপরাধ নয়। সমকামীরাও পাপী কিংবা অপরাধী নয়। সমকামীতা বিষমকামীতার মতই একটি সাধারণ যৌন প্রবৃত্তি। এই যৌন প্রবৃত্তি বা যৌন অভিমুখিতা নিজে নির্ধারণ করা যায় না। তাই কারও কোন ক্ষতি না করেও শুধু মাত্র যৌনতা কখনই পাপ বা অপরাধ হতে পারে না। আমরা সমকামীদের পাপবোধ এবং অপরাধবোধ থেকে বের করে আনতে চেয়েছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এরা এতটাই জ্ঞানপাপী যে এদের না আছে বিশদ ধর্মীয় জ্ঞান আর না আছে সমকামিতা নিয়ে কোন বৈজ্ঞানিক জ্ঞান।

ছোট বেলায় এদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে অন্য ধর্মের সব কিছু ভুল আর নিজ ধর্ম একেবারে ভুলের উর্ধ্বে। এটার সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনও মনে করে নি এরা কখনও। তাই সেই মগজ ধোলাই করা জ্ঞানের কারণে এরা নিজেরদের পাপী মনে করে এবং সমকামীদের বৈধতার বিরোধীতা করে। আবার কোন কোন ধার্মিক সমকামিদের বৈধতা চায় কিন্তু ধর্মকে একেবারে সমালোচনার উর্ধ্বে নির্ভুল হিসেবে দাবী করে। এই দাবী করে সমকামিতার বৈধতা চাওয়া যে একেবারে স্ববিরোধীতা, এটা এদের মাথাতেই আসে না। ধর্ম যদি নির্ভুল হয় তাহলে ধর্মীয় দাবী অনুযায়ী প্রতিটি সমকামী বিকৃত মস্তিস্কের, পাপী, অপরাধী, জাহান্নামী, হত্যাযোগ্য অপরাধী। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলে সমকামীরা এসব কোনটিই নয় বরং স্বাভাবিক।

এবার ধর্মকে ঠিক রাখতে এরা বলবে ধর্মে সমকামিতা পাপ কিন্তু সমপ্রেম নয়। এদের এসব অযৌক্তিক কথা শুনলে স্তম্ভিত হয়ে যাই। সমপ্রেম আবার আলাদা কোন কিছু নাকি? প্রেম করে যৌন মিলন করাকেও সমকাম বলে আবার প্রেম না করেও যৌন মিলন করাকে সমকাম বলে। তবে এখানে একগামিতা এবং বহুগামীতার কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু ধর্ম সমপ্রেমী কিংবা সমকামী আবার একগামী কিংবা বহুগামীর বাছবিচার করে না। বরং হুকুম দিয়েছে যেই ব্যক্তিই সমকামিতা করবে তাকেই হত্যা করবে। এমনকি কোন পুরুষ যদি নারীর পোশাক পরে এবং কোন নারী যদি পুরুষের পোশাক পরে, তাকে অভিশাপ দেয়া হয়েছে এবং বাড়ি থেকে বের করে দিতে বলা হয়েছে। এত কঠোর বিধান দেয়ার পরও কিছু সমকামীর ধর্মের প্রতি দরদ উথলে ওঠে এবং শরীয়া আইনের বাস্তবায়ন কামনা করে।

কিন্তু তারা ভুলে যায় শরীয়া আইনের বাস্তবায়ন হলে তাদের একটারও মাথা আর গর্দানে থাকবে না। এরা মনে করে সমকামী হয়ে ধার্মিকতা দেখালে ধর্মগুরুরা এদেরকে মাথায় তুলে রাখবে। কিন্তু বাস্তবে হেফাজতি, জামাতি এবং ড. তুহিন মালিক, আরিফ আজাদ সহ শত শত মোল্লারা সমকামীদের হত্যা করার আইন চেয়ে লেখালেখি করছে। কিন্তু এ সমস্ত দ্বিচারি সমকামীরা মনে করে শরীয়া আইন বাস্তবায়ন হলেও মাথা কাটার আইন বাস্তবায়ন হবে না। এ রকম কান্ডজ্ঞানহীন চিন্তা মূর্খ ছাড়া কেউ করতে পারে না। কারণ শরীয়া আইন বাস্তবায়ন হলে সমকামীদের মাথা কাটার আইনের প্রয়োগ হবেই। আর যেভাবে সমকামীরাও নিজেদের মাথা কাটার আইনের পক্ষে কথা বলা শুরু করে তাতে সময়ের পরিবর্তনে তা বাস্তবায়ন হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

ইদানিং ইন্দোনেশিয়া সে দিকেই হাটতে শুরু করেছে। আর নিজ দেশে মাথা কাটার আইন বাস্তবায়ন করে অনেক সমকামীই ইহুদী, খৃষ্টানের দেশে পাড়ি জমানোর স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু এরা জানে না ইউরোপ আমেরিকা এদেরকে গ্রহণ করার জন্য বরণডালা নিয়ে দাড়িয়ে নেই। বরং ইউরোপ আমেরিকার অনেক দেশই অভিবাসন নিষিদ্ধ করেছে। তাই হে সমকামীরা - একটু জ্ঞান-বুদ্ধির চর্চা কর। সমকামী হয়েও "শরীয়া আইন, শরীয়া আইন" না করে বরং চেষ্টা কর এ দেশকে ইউরোপ আমেরিকার মতো উন্নত করতে এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠা করতে। আর তার জন্য দরকার মুক্ত জ্ঞানের চর্চা। সংকীর্ণ চিন্তাধারার চর্চা এ দেশকে যুদ্ধ পীড়িত, দারিদ্র, অস্থিতিশীল, ব্যক্তি স্বাধীনতাহীন মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর মতো করে দিতে পারে, কোন ইউরোপ আমেরিকার মতো রাষ্ট্র হতে দেবে না। পরিশেষে বলব নিজের মাথা তলোয়ায়ের নিচে পাঠানোর আগে একটু সচেতন হও।





-----------------------------------------------------
তালিকায় ফিরে যান
মূল পাতা
আমাদের সম্বন্ধে
সম্পাদকের বক্তব্য
তথ্য ভান্ডার
সৃজনশীলতা
সংবাদ
স্মৃতি চারণ
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
জরুরী আবেদন
নিবন্ধ
দন্ডবিধি