কচি ছেলে চাই
পাপিষ্ঠ

শুরুতেই চলে যাই আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে, যেখানে ধর্মের জন্য মানুষ শহীদ হতে অন্যকে হত্যা করতে কুণ্ঠা বোধ করে না। সেখানে এটাকে ইমানই দায়িত্ব মনে করে সেই দেশের লোক।

১) পেশোয়ার পাকিস্তানের একটি শহর। অনেক ট্রাক মালবাহী গাড়ি চলে যায় এই শহরের বুক চিরে। কখনও চীন দেশের সীমান্তের দিকে, কখনও আফাগান সীমান্তের দিকে। এই সব ট্রাক চালক ও তাদের সহযোগীরা দীর্ঘ যাত্রায় যখন এখানে এসে পৌছায়, তাদের বিশ্রামের জন্য আছে কিছু হোটেল জাতিয় ব্যবস্থা। আর বিরতির এই সময়ে তাদের সঙ্গ দেয় কিছু প্রমোদ বালক যাদের বয়স ৮ থেকে ১৬। কখনও বিছানায়, কখনও ট্রাকের আসনে। এটা এতটাই স্বাভাবিক যে গরীব বাবারা তাদের সন্তানদের এখানে নিজেরাই নিয়ে আসে কিছু টাকার জন্য। কারণ ছেলেরা এগুলাতে জড়ালে সমাজ কিছু বলবে না - সম্মান যায় শুধু মেয়েদের বেলায়। এই সব ছেলেদের বয়স যত কম তত দাম উঠবে। এরকম পরিস্থিতে এই সব শিশুরা হয়ে যায় শুধুই ক্লান্ত পুরুষদের ভোগের পণ্য। বেশির ভাগ সময়ে শিশুরা আক্রান্ত হয় বিভিন্ন যৌনবাহিত রোগে, কারণ কোন ধরণের কনডম আর জেল তারা ব্যবহার করে না। ভাবছেন আইনের কথা? আছে তবে তা শান্তি প্রজাতন্ত্রের আইন।

২) ফেইসবুকে আমার সাথে অনেক পাকিস্তানী কামী পুরুষের (তাদের আমি সমকামী বলি না) পরিচয় আছে। এমনই একজন থাকেন পাঞ্জাবে। তার বয়স ২৭, তিনি সুদর্শন, তিনি বিয়ে করেছেন এবং তার সন্তানও আছে। তার কাছ থেকে শোনা এবং ছবিতে দেখা - তিনি ও তার দুই বন্ধু, যাদের বয়স ৩৫ আর ২৫ - তারা সব সময় একসাথে থাকেন। গ্রামের ভেতরে ফাঁকা জায়গায় তাদের একটি ঘর আছে আড্ডা দেবার জন্য। কিন্তু এই ঘরে আরেকটা ছেলে আসে তাদের কাছে। তার বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ১৭। এই ছেলের কাজ তাদের তিন বন্ধুর শয্যা সঙ্গী হওয়া। বিনিময়ে ছেলেটা যা পায় তা হল টাকার উপহার।

৩) একজন পাক রেঞ্জার্সে চাকুরি করেন এবং তার আসল ফেসবুক প্রোফাইল দিয়েই কম বয়সই ছেলে খুঁজেন। এর জন্য তিনি ঘন্টায় ৫০০০ রুপি খরচ করতেও রাজি। উনার বয়স ৩৫ এবং তিনি বিবাহিত। কিছু দিন আগে হয়াটস এপে একটি পাকিস্তানীদের দলে একটি ভিডিও পাই। তাতে কিছু মধ্যবয়স্ক লোক একটি তরুণ ছেলেকে নির্মম ভাবে ধর্ষণ করছিল। তার কান্নায় এতটুকু দয়া হয়নি হায়না গুলোর।

আফগানিস্তানে বাচ্চাবাজি শব্দগুলো লিখে গুগলে অনুসন্ধান করলেই এই ব্যাপারে জানতে পারবেন। মুলত আফগানিস্তানের উপজাতি অঞ্চলে বয়ঃসন্ধি হওয়ার আগে কিছু ছেলেদেরকে মেয়েদের কাপড় পরিয়ে নাচানো হয় ঘরোয়া জলসায়। এরপর ধনী লোকেরা তাদের কিনে নেয় তাদের মনোরঞ্জনের জন্য । সাধারণত এই বাচ্চারা গরীব ঘর থেকে আসে। তাদেরকে থাকতে হয় মনিবের সাথে বয়ঃসন্ধি হওয়া না পর্যন্ত। আইন? সেটা আবার কি?

এই ঘটনাগুলো বলার কারণ সমকামিতা আর শিশুকামিতা এক নয়। শিশুকামিতাকে এই সমাজগুলো বৈধতা দিলেও সমকামিতাকে দেয় না কারণ সেটা হারাম আর শিশুকামিতা আরাম। আমাদের দেশেই সমকামী সমাজে ফেইসবুকে মাঝে মাঝে কচি ছেলের বাহারই বিজ্ঞাপন দেখি। তখন ভাবই আমি কোথায় দাঁড়িয়ে কাদের সাথে বন্ধুত্ব করছি? বিবেকের কাছে প্রশ্ন করি।

আমি নিজেও ছেলে বেলায় এক শিশুকামির শিকার হয়েছিলাম তাই বুঝি এটা কতটা যন্ত্রণা দায়ক। আমার এই লেখায় আমি কোন উপদেশ দিব না। যারা কচি ছেলে খুঁজে বেড়ান তাদেরকে বিবেকের কাছে ছেড়ে দিলাম। আইন দিয়ে বিবেক বা মানসিকতা তৈরি করা যায় না।

------------------------------------------

সম্পাদকের মন্তব্যঃ

সমকামিতা এবং উভকামিতার অধিকার প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতি যেখানে আছে সেখানেই প্রযোজ্য। এ'দুটো ব্যাপার শিশুকামিতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং শিশুকামিতাকে কঠোর ভাবে বর্জন এবং রোধ করতে হবে যেহেতু একজন শিশুর পক্ষে সম্মতি দেয়া সম্ভব নয়। বলাবাহুল্য শিশুকামিতা আর ধর্ষনের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এটাও বলা যায় যে শিশুকামিতা না বলে এখানে শিশু নির্যাতন বা শিশু ধর্ষণ বলা উচিৎ।





-----------------------------------------------------
তালিকায় ফিরে যান
মূল পাতা
আমাদের সম্বন্ধে
সম্পাদকের বক্তব্য
তথ্য ভান্ডার
সৃজনশীলতা
সংবাদ
স্মৃতি চারণ
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
জরুরী আবেদন
নিবন্ধ
দন্ডবিধি