বাংলাদেশের দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ আপাতত স্থগিত
বৈচিত্র্য.বাংলা

১৯ মে ২০১৮

আমাদের লক্ষ্য ছিল সমলৈঙ্গিক সম্পর্কগুলোকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা বাংলাদেশের দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ আনা। আমরা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য নিয়েছিলাম যারা এটার সম্ভাবনা যাচাই এবং একটা রূপরেখা তৈরি করার জন্য একটি ব্যাবক অনুসন্ধান সম্পন্ন করে। এই প্রক্রিয়াটার পথে নানান সাংষ্কৃতিক, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বাধাগুলো আমাদের আগে থেকে ভালভাবে জানা থাকলেও, একটি বারতি বিষয় এই আন্দোলনের অগ্রসরের দুয়ার এখনকার মত বন্ধ করে দিয়েছে।

সংস্থাটি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি আমরা দেখেছি যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সরকারের বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী রায় দেবার পর প্রধান বিচারপতি জনাব সিনহা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দেশ ত্যাগ করেন। এর অর্থ দাঁড়ায় যে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ স্তরও বাংলাদেশ সরকার দ্বারা প্রভাবিত। এমতাবস্থায়ে এটা অনিশ্চিত যে ৩৭৭ ধারাকে নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত থেকে এমন একটা রায় পাওয়া যাবে যা সরকারের বিরুদ্ধে যাবে। একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ থেকে জয়ের ভাল সম্ভাবনা ছাড়া এই মুহূর্তে আইনি রিট শুরু করা অনুচিত হবে।

এখন নিজেকে স্থগিত করে ফেলাতে আমরা কিছুটা মর্মাহত হলেও সামনের দু’টো ঘটনার দিকে আমরা তাকিয়ে থাকতে পারি। এক হচ্ছে সামনের বছরের শুরুতে (২০১৯) বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন যার ফলাফল এই মুহূর্তে অনিশ্চিত। আমাদেরকে জানতে হবে আমরা কি ধরণের সরকার পাবও এবং তাদের ইসলামীয় প্রবণতা কতটুকু। দুই হচ্ছে যে অদূর ভবিষ্যতে আমরা খুব সম্ভবত ভারতের সর্বোচ্চ আদালত থেকে সেই দেশের ৩৭৭ নিয়ে ইতিবাচক রায় পাবও। পৃথিবীর সর্ববৃহত গনতান্ত্রিক দেশে যদি সমলৈঙ্গিক সম্পর্ককে নিরপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাহলে বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ায় তার একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তখন মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি আমাদেরকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার দিকে মনোযোগ দিব। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি ছোট ও বড় শহর থেকে প্রায় প্রতিদিন অল্প বয়সের যৌন সংখ্যালঘুরা নিজেদেরকে নতুন করে প্রকাশ করতে শুরু করছে ফেসবুক এবং সেখানকার বিভিন্ন দলগুলোর মাধ্যমে যেখানে তারা নিজেদের মাঝে যোগাযোগ ও আলাপচারিতা করছে। তাদের কাছে আগে ভাগেই এই বার্তা পৌছে দিতে হবে যে সমকামী, রূপান্তরকামী ইত্যাদি হিসেবে তাদেরও আছে অধিকার এবং তাদের যৌন প্রবৃত্তি বিষমকামীদের যৌন প্রবৃত্তির মতই স্বাভাবিক। এটা জন্মগত এবং ডাক্তারই বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত। তাদের জীবনের সুখ আসবে আত্মগ্রহণের মাধ্যমে, তারপর পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, সমাজ ও রাষ্ট্রের গ্রহণের মাধ্যমে। আমরা প্রথম থেকেই এই তরুণ ও তরুণীদেরকে ভরসা ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা দিয়ে ভরে দিয়ে মাঠ পর্যায়ে থেকে একটা চেতনা ও শক্তি গড়ে তুলবো।

যারা এতো দিন ধরে আমাদেরকে সমর্থন করে আসছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সমকামীদের অধিকার মানবাধিকারেরই অন্তর্ভুক্ত এবং বাংলাদেশে এর কোন ব্যতিক্রম হতে পারে না - রাষ্ট্র, ধর্ম এবং সমাজ আমাদেরকে যাই বলুক।





-----------------------------------------------------
তালিকায় ফিরে যান
মূল পাতা
আমাদের সম্বন্ধে
সম্পাদকের বক্তব্য
তথ্য ভান্ডার
সৃজনশীলতা
সংবাদ
স্মৃতি চারণ
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
জরুরী আবেদন
নিবন্ধ
দন্ডবিধি