বড় ভাইয়ের সাথে আপনার সমকামিতার সম্পর্ক কি?
প্রত্যয় প্রকাশ

১৬ মার্চ ২০১৮

পাঠক। প্রথমে আপনাকে একটা জরিপের সাথে পরিচয় করাই। জরিপটা হলো ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুকের। এই জরিপটা হলো পৃথিবীর প্রতিটা দেশে ছেলে এবং মেয়ের অনুপাত কেমন তা নির্ণয় করা। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে একেবারে প্রত্যেকটা দেশে ৫৫ বছর পর্যন্ত মেয়ের তুলনায় ছেলে বেশি থাকে। এরপর থেকে ছেলে কমে কারণ ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় কম জীবনকাল অতিবাহিত করে বলেই এমনটা হয়। এই যে প্রকৃতিতে মেয়ের তুলনায় ছেলে সন্তান অধিক জন্ম নেয়, অন্তত সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা উন্নত বিশ্বে তেমন কোনো গুরুত্বপুর্ণ নয়। কারণ সেখানে সবাই মেধাকেই ব্যবহার করে, মেধারই মুল্য বেশি। কিন্তু অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে এটা একটা সুখবর বটে। ধর্ম আর দারিদ্রের আধিক্য আর শিক্ষার স্বল্পতার কারণে সেখানে শারীরিক পরিশ্রমটাই গুরুত্বপুর্ণ। তাই ছেলে সন্তানের একটা চাহিদা সেখানে লক্ষ্য করা যায়। মজার বিষয় হলো, এই ধরনের সমাজ গুলোতে সমকামিতার প্রতি এক ধরনের বিদ্বেষও বেশ প্রকট ভাবে দেখা যায়। পরিসংখ্যান থেকে এটা তো নিশ্চিত - প্রকৃতি বৈষম্য করে ছেলে সন্তান অধিক সৃষ্টি করে। কিন্তু এই বৈষম্য আপাতদৃষ্টিতে অনুন্নত বিশ্বে আশীর্বাদ মনে হলেও, বাস্তবে সেই প্রকৃতিই এক রসিকতা করছে হয়তো। কিভাবে? আজকে সেই পাঠটাকেই দেখব।

সমকামিতাঃ কি বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা?

১১ ডিসেম্বর এমন একটি গবেষণার খবর বিশ্ব মাধ্যমে আলোচিত হয়েছে যার এক শতাংশও যদি বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হত, তাহলে নিশ্চিতভাবে স্রোতের মত ধেয়ে আসত হাজারও গালিগালাজ। তো গবেষণার কি তথ্য প্রকাশিত হলো, তা নিয়ে কিছু বলার আগে বলি, এই প্রসঙ্গের পিছনের কথা।

পাঠককে প্রসঙ্গটা বুঝার আগে বুঝতে হবে Fraternal birth order effect বা বাংলায় জন্মসুত্রে ভ্রার্তৃসম্পর্কিত প্রভাব সম্পর্ককে। বাংলা উইকিপিডিয়ায় এটি নিয়ে একটি প্রবন্ধ আছে - যদিও তা অসম্পুর্ণ, তবুও আছে। রেয় ব্ল্যানচার্ড এই পদটি প্রথম ব্যবহার করেন। বিভিন্ন জায়গায় একে Older brother effect বলেও অভিহিত করা হয়। ১৯৫৮ সালে সর্বপ্রথম এই সংক্রান্ত গবেষণা করা হয়।

জন্মসুত্রে_ভ্রার্তৃসম্পর্কিত_প্রভাব_কি?

স্বল্প কথায় বলি, একজন মায়ের যদি একটি পুত্র সন্তান থাকে; এবং তারপর আরও একটি পুত্র সন্তান জন্মায় তবে পরবর্তী ছোট ছেলেটির সমকামী হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ২০০৬ সালের একটি গবেষণা মতে এ সম্ভাবনা প্রায় ৩৩ শতাংশ। এটি কেন হয়, এমন উত্তর দিতে গিয়ে এইচ-ওয়াই এন্টিজেন নামক হাইপোথিসিসকেও (অনুমান) প্রস্তাব করা হয়।

রেয় ব্ল্যানচার্ড রা বলেছেন, যখন একজন মা পুত্র সন্তানকে গর্ভে ধারন করেন, তখন মায়ের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরুষ ফিটাসকে (যেহেতু পুরুষ ফিটাসে ওয়াই ক্রোমোজম কার্যকর) বহিরাগত ভেবে কার্যকরী হওয়া শুরু করে। প্রথম ছেলে সন্তানে তা তেমন একটা প্রভাব না ফেললেও পরবর্তী ছেলে সন্তানের বেলায় তা আরো সক্রিয় হয়ে উঠে।

কিন্তু এই সবকিছুই ছিল একধরনের হাইপোথিসিসের ন্যায়। কারণ এই প্রভাবটা যে কার্যকরী তা বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত ছিলেন, কিন্তু কেন আর কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা ছিলেন এক ধাঁধার মধ্যে। তবে ১১ ডিসেম্বর প্রোসিডিংস অব ন্যাশনাল একাডেমী অব সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণার কারণে বলা যায় প্রথমবারের মত এই রহস্য উন্মোচনে দেখা গিয়েছে আলোর দিশা। ব্রক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের অধ্যক্ষ এন্থনি বোগার্ট এবং তার দল এই গবেষণাটি করেন।

আমাদের শরীরের আছে নিজস্ব রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা। যখনই বহিরাগত কোনো বস্তু যেমন বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে, তখন শরীর একে স্বাভাবিকভাবে চিনতে পারে না। গণ্য করে বহিরাগত হিসেবে। তখন শরীরের এন্টিবডি সক্রিয় হয়ে উঠে একে নাশ করার জন্য। এটা সবসময় ভালো হলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে যৌন অভিমুখিতাকে। আর তেমনটাই দেখা গিয়েছে এন্থনি বোগার্টের গবেষণায়।

বোগার্ট ও তার সহযোগীরা ১৪২ জন নারী ও ১২ জন পুরুষকে (১৮ থেকে ৮০ বছর) নির্বাচিত করে রক্ত সংগ্রহ করেন ও শুধুমাত্র পুরুষে তৈরি হওয়া প্রোটিনকে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দেখতে পান, ছেলে সন্তানকে গর্ভ ধারন করা অবস্থায় নারী এন্টিবডির যে ক্রমবিকাশ ঘটে, তার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়াই ক্রোমোজম দ্বারা উৎপাদিত এনএলজিএন৪ওয়াই প্রোটিন (NLGN4Y)। পিতা এবং মাতার রক্তের গ্রুপ যদি না মিলে, তাহলে ফিটাসের অনুর (মলিকিউলের) বিরুদ্ধে এন্টিবডি সৃষ্টি হয়। এরকমটা হরহামেশাই দেখা যায়। তাই এটা ততটা গুরুত্ব বহন করত না, যদি না এন্টিবডির শিকার সুনির্দিষ্টভাবে NLGN4Y প্রোটিন হত। আর এটাই গবেষকরদের আগ্রহী করে তুলে।

NLGN4 হল মস্তিষ্কের কোষের পৃষ্ঠতলে ওয়াই ক্রোমোজম দ্বারা উৎপন্ন - ব্রেইন নেটওয়ার্কের ক্রমবিকাশে ভুমিকা রাখা এক ধরনের প্রোটিন। এই প্রোটিন পুরুষ ফিটাসের মস্তিষ্কের ক্রমবিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। গবেষকদের অনুমিত ধারণা এই যে এই প্রোটিন মস্তিষ্কের সেই এলাকাকে প্রভাবিত করে - যেখানে আকর্ষণ নিয়ন্ত্রিত হয় এবং উচ্চ মাত্রার এন্টি-NLGN4Y এর স্তর সম লিঙ্গকে আকর্ষণ করতে ভূমিকা রাখে - নিউরনের একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপনে এটি গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে।

গবেষণাটির_ফলাফল_কেমন_ছিল?

বোগার্ট ও তার সহযোগীরা এই গবেষণা থেকেঃ

ক) দেখতে পান নারীতে, পুরুষের তুলনায় NLGN4Y নামক প্রোটিনের প্রতি উচ্চহারে এন্টিবডির ক্রিয়া রয়েছে।

খ) দেখতে পান, যেসব মায়ের কোনো সন্তানই নেই তাদের তুলনায় বড় ভাই আছে এরকম সমকামী সন্তানের মায়েদের উক্ত প্রোটিনের প্রতি এন্টিবডির ক্রিয়ার হার উচ্চ।

গ) দেখতে পান বিষমকামী সন্তানদের মায়েদের তুলনায় বড় ভাই আছে এরকম সমকামী সন্তানের মায়েদের উক্ত প্রোটিনের প্রতি এন্টিবডির ক্রিয়ার হার উচ্চ।

এই ফলাফল থেকে তার দল অনুসিদ্ধান্তে পৌছেছেন যে একজন নারী যখন প্রথমবারের মত গর্ভবতী হন, তখন ওয়াই ক্রোমোজম দ্বারা উৎপাদিত প্রোটিন রক্তস্রোতে মিশে যায়। মায়ের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই প্রোটিনটিকে বহিরাগত ধরে নেয়, ফলে উৎপন্ন করে এন্টিবডি। যদি নারীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিবডি উৎপন্ন হয়ে থাকে এবং তিনি পুনরায় আরো একটি ছেলে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন, তাহলে সেই এন্টিবডিগুলো অমরার দেয়াল ভেদ করতে পারে ও দ্বিতীয় ছেলে-ফিটাসের মস্তিষ্কের প্রোটিনের উপর তা প্রভাব [৯] ফেলতে পারে। আর এভাবেই তিনি যতটা পুত্র সন্তান গর্ভে ধারণ করবেন, তার ছোট সন্তানের ক্রমান্বয়ে সমকামী হবার সম্ভাবনা বাড়তেই থাকবে। বোগার্টের মতে NLGN4 মস্তিষ্কের কোষের একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপনে ভুমিকা রাখে। ফলে এর উপর প্রভাব আকর্ষণকে পরিবর্তন করে দিতে পারে।

এই ধরনের গবেষণা বোগার্ট এবং তার সহযোগীরা মিলে প্রায় ২০ বছর ধরে করে যাচ্ছেন। প্রাথমিক ফলাফল গুলো এই বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করলেও কিছু ফলাফল ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। একটি গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে, যদি একাধিক ভাই থাকে এবং অপেক্ষাকৃত ছোট ভাইকে আলাদাভাবে বড় করা হয় তবুও সেই ভাইটি সমকামী হবার সম্ভাবনা থাকে। দত্তক নেওয়া ছেলে শিশুরা যদি বড় ভাইয়ের সাথে বড় হয় তাহলে গবেষকরা সেই পরিবারে এই বিন্যাস দেখেন নি। তাই বিজ্ঞানীরা এটা ভাবতে শুরু করেছিলেন যে নিশ্চয়ই এর সাথে মায়ের দিকের কোনো প্রভাবে সংযোগ আছে। গবেষকরা নারী সমকামী, উভকামী, বা নিষ্কামীদের নিয়ে কোনো ব্যাখ্যাই দেন নি।

বিভিন্ন_গবেষকদের_মতামতঃ

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক জে মাইকেল ব্যালী মনে করেন যে এই গবেষণাটি তাৎপর্যপুর্ণ। ব্যালী এই গবেষণার সাথে ছিলেন না, কিন্তু তিনি এই সংক্রান্ত কাজ করেছেন। তিনি জেনেটিক ফ্যাক্টর পেয়েছেন যা যৌন অভিমুখিতার কিছু পার্থক্যকে ব্যাখ্যা করতে পারে। ব্যালীর সাম্প্রতিক পেপার যা এই ডিসেম্বরেই নেচারে প্রকাশিত হয়েছে,তা অনুযায়ী তিনি মানুষের জিনোম নিয়ে কাজ করেছেন এবং তিনি ও তার দল খুজেঁ দেখেছেন যে সমকামী এবং বিষমকামী পুরুষদের তুলনায় সমকামীদের সিঙ্গেল লেটার ডিএনএ তে পরিবর্তন (বিষমকামীদের তুলনায় change) আছে কিনা। তিনি দুটি জিন পেয়েছেন যা সত্যি পরিবর্তিত। এই অন্বেষণ যৌন অভিমুখিতার ক্রমবিকাশের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। ব্যালী বিশ্বাস করেন, তার গবেষণাটি অনেক বেশি গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠবে যদি এই পরীক্ষাটি পুনপ্রমাণিত হয়।

তিনি বলেছেন - আমাদের গবেষণা শুধুমাত্র এটা দেখায় যৌন অভিমুখিতা নিয়ন্ত্রণের জন্য জিন থাকতে পারে। এটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ কাজ হয়ে উঠবে যদি দেখা যায় পুনঃগবেষণায় এটি সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। বোগার্ট নিউ সায়েন্টিসকে বলেছেন যে আমি এটা বলব না যে আমরা জন্মসুত্রে ভ্রার্তৃসম্পর্কিত প্রভাব নামক প্রহেলিকার সমাধান করেছি। তবে এই কলাকৌশল সমাধানের আমরা খুবই কাছাকাছি। মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক ব্রেডিলাভ বলেছেন - এটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ গবেষণা কারণ এটি জন্মসুত্রে ভার্তৃসম্পর্কিত প্রভাবকে ব্যাখ্যা করতে সম্ভাবনীয় কলাকৌশলকে উপস্থাপন করে। সম্ভবত, মানুষের যৌন অভিমুখিতার সাথে সম্পর্কিত সবচেয়ে বেশি দৃঢ় বৈশিষ্ট্যকে উপস্থাপন করে। তিনি আরও বলেন - “এই প্রোটিনটা সাইনাপ্স গঠনে গুরুত্বপুর্ণ। আপনি দেখতে পারেন কিভাবে মার্তৃ এন্টিবডি ফিটাল ব্রেইনে প্রভাব ফেলছে - যা ব্যাখ্যা করছে কেন পরবর্তী ছেলে সন্তানগুলো সমকামী হয়ে বেড়ে উঠছে।“

যৌন অভিমুখিতায় জৈব নির্ধারণ সংক্রান্ত গবেষণার পথপ্রদর্শক ডিন হ্যামার বলেছেন - “এই তাৎপর্যমণ্ডিত প্রারম্ভিক পরীক্ষাটি যদি পুনঃপরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট অংশকে শনাক্ত করবে যা সমকামী ও বিষমকামী উভয়ের ক্রমবিকাশে গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠতে পারে।” তিনি আরও বলেছেন - "এই গবেষণাটি মানুষের নিউরোবায়োলজি ও জিনগত ক্রমবিকাশের ক্ষেত্রে চমৎকার পথের সুচনা করবে"।

উপসংহারঃ

বেশ কিছু ফ্যাক্টর কারও যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে গবেষকরা এমন একটি বিন্যাস লক্ষ্য করেছেন যার সাথে মার্তৃগর্ভের সংযোগ আছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে কারও অনেকগুলো ভাই থাকলেই কি আপনি দৌড়ে গিয়ে বলবেন - “ওহ আচ্ছা তুমি তো সমকামী। তোমাকে এখনি দেশ ছেড়ে ভাগতে হবে?”। কেও যদি বলে সে সমকামী তাহলে তাকে প্রশ্ন করবেন, কয় ভাই আছে? যদি এক মায়ের এক ছেলে হয়, তাহলে কি বলবেন? ওহ! না, তোমার তো ভাই ই নেই, তাহলে তুমি সমকামী নও, এটা তোমার ফ্যাশন? এই গবেষণার ফলই কি শেষ কথা এই বিষয়ে???

প্রথম প্রশ্নের উত্তরঃ যেমনটা দেখা যাচ্ছে একটি গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে একাধিক ভাই থাকা মানেই ছোট ভাই সমকামী হবে তা নয়, বড় ভাই থাকলে ছোট ভাইয়ের সমকামী হবার সম্ভাবনা মাত্র ৩৩ শতাংশ - অর্থাৎ একশ জনে ৩৩ জন। তাও সেটা সম্ভাবনা আরও কমও হতে পারে।

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরঃ যারা বাস্তবিক অর্থেই সমকামী, তাদের সবারই বড় ভাই থাকবে এমনটা নয়। একটি হিসাব থেকে দেখা গিয়েছে যারা সমকামী হয়, তাদের মাত্র ১৫ শতাংশের ক্ষেত্রে এই প্রভাব কার্যকরী অর্থাৎ বাকি ৮৫ শতাংশ এপিজেনেটিক্স, এনভাইরোম্যান্টাল ফ্যাক্টর, মস্তিষ্কের কিছু প্রত্যঙ্গ, বা জেনেটিক্যাল কারণেও সমকামী হয়ে থাকতে পারে।

তৃতীয় প্রশ্নের উত্তরঃ অবশ্যই এই গবেষণার ফলাফলটাই এই প্রভাব সম্পর্কে শেষ কথা নয়। কারণ এর স্যাম্পল সাইজটা স্বল্প। ফলে মেটা এনালাইসিসে ভিন্ন রকম ফলাফলও আসতে পারে। এটা যেমন একটা সমস্যা, তার চেয়েও বড় সমস্যা পিয়ার রিভিউ করার পরেও অনেক গবেষণা পুনঃপরীক্ষা করলে একই ফলাফল আসে না। তাই পুর্বের গবেষণাগুলো সেক্ষেত্রে মুল্যহীন হয়ে পরে। বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এ ধরনের অনেক পিয়ার রিভিউড গবেষণার মধ্যে অন্তত দুই তৃতীয়াংশ গবেষণা পরবর্তীতে গিয়ে আর একই রূপ ফলাফল প্রদর্শন করে না। তাই এ গবেষণাটি পুনঃপরীক্ষার পরেই বাস্তবতার আরও কাছে যাওয়া যাবে।





-----------------------------------------------------
তালিকায় ফিরে যান
মূল পাতা
আমাদের সম্বন্ধে
সম্পাদকের বক্তব্য
তথ্য ভান্ডার
সৃজনশীলতা
সংবাদ
স্মৃতি চারণ
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
জরুরী আবেদন
নিবন্ধ
দন্ডবিধি