বিকৃতি
শাহরিয়ার রিদম

(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরনঃ গোঁড়া ধার্মিক সমাজ দয়া করে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যাবেন। প্রসঙ্গটি আপনাদের জন্য উপযোগী নয়)

মাথায় একটা ব্যাপার ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটা কিছুতেই ঘুমাতে দিচ্ছে না। ব্যাপার টা হল বিকৃতি কি? ধরুন সাপ দেখলেই আপনার গায়ে ঘিনঘিনে একটা ব্যাপার কাজ করে, কিন্তু অন্য কেউ অবলীলায় অজগার সাপ পুষছে; এটাকে কি বিকৃতি বলা যায়? কিংবা আপনি তেলাপোকা দেখলে ভয়ে কুকড়ে যান সেখানে আপনার ছোট ভাই অবলীলায় তেলাপোকা ধরে আপনার দিকে ছুড়ে দিচ্ছে, সেটাকে কি বিকৃতি বলবেন? অথবা রক্ত দেখলে যেখানে আপনার মাথা ঘুরায়, সেখানে চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়া ছাত্ররা প্রতিনিয়ত রক্ত নিয়ে কাজ করছে, সেটা কে বিকৃতি বলবেন? আসলে বিকৃতির ধারনা জনে জনে ভিন্ন, তার মানে এই না যে আপনার বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের যা ভাল লাগবে না তাই বিকৃতি। অর্থাৎ বিকৃতির সংজ্ঞা একটা ভাবমূলক মাত্র। আপনার যা বিকৃতি মনে হচ্ছে তা অন্য কারো জন্য হয়তো বিকৃতির সংজ্ঞাতেই পড়বে না।

লেখাটার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে এবার একটু আলোকপাত করি। আমেরিকায় সমকামী বিবাহকে স্বীকৃতি দেওয়ায় মার্ক জুকারবার্গ তা উৎযাপন করার জন্য ফেসবুকে আপনার ছবিতে রংধনু সংযুক্ত করার একটা জলছাপ তৈরি করেছে। আমরা যারা মানবিক সম্পর্ককে সমর্থন করি তারা অনেকেই নিজের ছবিতে তে এটা ব্যাবহার করেছি। তাতেই ধার্মিক সমাজের আঁতে ঘা লেগেছে। যেই কোরান শরীফ এত দিন সংরক্ষিত জায়গায় বসে ধূলার ডিপোতে পরিণত হয়েছে, তা ঘাঁটাঘাঁটি মার্ফত সমকামিতা যে বিরাট পাপের,তা প্রমাণে ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে উঠেছে। এখন আমার প্রশ্ন, নিজের প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে রিকশায় ঘোরার সময়, তার অধরে চুমু এঁকে দেওয়ার সময় আপনার এই নৈতিকতা, এই ধর্ম কোথায় রেখে আসেন?

আপনার ধার্মিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা আমার উদ্দেশ্য না, এমন কি আমি বলবও না যে আপনি সমকামিতাকে সমর্থন করেন। শুধু একটা আবেদন, এটাকে বিকৃতি বলার আগে আপনার যুক্তির কাছে একবার প্রশ্ন করেন যা করছেন তা ঠিক করছেন কি না!

সমকামিতা এক প্রকার মানসিক বিকৃতি, পশুরাও এই জাতীয় অনৈতিক কাজে জড়ায় না – এই কথা বলার আগে একটি বার চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়ে আসেন। একাধিক প্রজাতির মধ্যে সমকামিতা দেখা গেলেও সমকামভীতি কেবল এক প্রজাতিতেই বিদ্যমান। কার মধ্যে মানসিক সমস্যা বিদ্যমান এবার হয়তো আপনাকে ভাবাবে। যদি না ভাবায়, যদি আপনি পেশাদার খুনি, পশুকামী আর ধর্ষকদের সাথে সমকামীদের তুলনা করতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন সেটা কার দোষ আমি বলব না, তবে ভালবাসার সাথে জুলুমকে জড়ানোর জন্য আপনাকে চিকিৎসা নিতে বলা উচিত। কিন্তু তাও বলব না, কেননা আপনি নিজের জগতে অন্ধ, আলো আপনার চোখ পর্যন্ত প্রবেশ কখনো ই করবে না।

যার যা করতে ইচ্ছে হয়, তাকে আপনি যতই আটকান সে সেটা করবেই; সেটা আইনসিদ্ধ হোক বা না হোক। হুদাকামে প্যাচাল পেড়ে লাভ কি? আপনি আমার উপর যেমন আপনার যুক্তি চাপানোর চেষ্টা করছেন, তেমন আমিও পারতাম; কিন্তু আমি বৈচিত্রে বিশ্বাসী, অন্ধবিশ্বাসী নই।

সবশেষে এটুকুই বলব, ভালবাসতে শিখুন; আমি আমার ছেলে-মেয়েকে ভালবাসতেই শিখাব, সেটা যত কিছুই হোক না কেন; আমার বিশ্বাস ভালবাসার শক্তি অনেক বেশী। বাকিটা না হয় সৃষ্টিকর্তার হাতেই ছেড়ে দিলাম। এবার বিচারের ভার উনার। সাথে এটুকু একটু ভেবে দেখবেন – কতটা বেপরোয়া হলে, কতটা লাচার হলে একটা মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে। হুদাকামে আপনার গালি খাওনের জন্য কারো চুলকায় না।





-----------------------------------------------------
তালিকায় ফিরে যান
মূল পাতা
আমাদের সম্বন্ধে
সম্পাদকের বক্তব্য
তথ্য ভান্ডার
সৃজনশীলতা
সংবাদ
স্মৃতি চারণ
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
জরুরী আবেদন
নিবন্ধ
দন্ডবিধি