গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন সমকামিতার সাথে সুনির্দিষ্ট জিনের সংযোগ
প্রত্যয় প্রকাশ

২৯ ডিসেম্বর ২০১৭

আমাদের জীবনের নীলনকশা প্রোথিত আছে আমাদের জিনোমে। সমকামিতা নামক এই যৌন অভিমুখিতার সাথেও কি তাহলে জিনের সংযোগ আছে? কি বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা?

সমকামিতা বাংলাদেশের গ্রাম্য সমাজে প্রায় অজ্ঞাত এক নাম, সেকুলার সমাজে এ যেন গা ঘিনঘিনে বা অস্পৃশ্য কোনো বিষয়। তাই এলিট সমাজে অনুচ্চারিত এক শব্দ। এই সবকিছুর মধ্যে; নাম নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামী সমাজে এটি তুলনামুলক ভালো অবস্থানে আছে। সেখানে ঢাকঢোল পিটিয়ে বলে দেওয়া হয়, মিথোলজিক্যাল কিচ্ছার কথা। ক্ষণে ক্ষণে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, আসমানী গজবের কথা। আর ইতিহাসের সেই পৌরাণিক গল্পকে সামনে রেখে; সমকামিতা বাস্তবে কি; তা না বুঝেই এটি কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই সমকামিতা নিয়ে যুক্তিপুর্ণ কোনো আলোচনা রাখতে গেলে যদি দেখা যায় কারো বক্তব্য সমকামিতার পক্ষে যাচ্ছে; তাহলে সেও হয়ে উঠতে পারে ধর্মের ধ্বজাধারীদের কাছে চক্ষুশুল। যার প্রমাণ দেখা গিয়েছিল অভিজিৎ রায়ের ক্ষেত্রে। সমকামিতা নিয়ে বাংলা ভাষায় প্রথম বৈজ্ঞানিক নীরিখে লেখা বইয়ের জন্য অনলাইনে তাকে ক্রমাগত গালিগালাজের শিকার হতে হয়েছিল। যার পরিণতি গিয়ে শেষ হয়েছিল তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। এই যে সমকামিতা আর সাধারণ ধার্মিকদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ বাংলাদেশে বিরাজমান; তা দেখে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সাধারণ মানুষ বুঝি, সমকামিতা সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণার সকল ধারণা রাখেন। কারণ, আপনি যখন কোনো কিছুর বিরোধী হয়ে উঠবেন; তাই রাজনীতিবিদদের মত বিরোধ করার জন্য হলেও সে সংক্রান্ত সকল তথ্য আপনার নখদর্পনে থাকা চাই। কিন্তু আসলে তা নয়, বাংলাদেশের মানুষের কাছে সমকামিতা সংক্রান্ত যে খবর টা আছে, তা হলো। সমকামিতা জীনগত নয়, এতটুকুই। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কিভাবে এই তথ্যটা জানে; তা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। শেষ নবীর পোশাককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আধুনিক ধারার পোশাক পরা ডিজিটাল যুগের ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ জাকির নায়েকের কথা এখানে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। গল্পটা বলেই ফেলি:

একবার একজন মুসলিমা জাকির নায়েককে বিবর্তনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। জাকির নায়েক সেই প্রশ্নের উত্তরে বিবর্তনকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন নানান ধরনের তথ্য দিয়ে। যদিও অনেকে বলেন, জাকির নায়েক ৭ মিনিটে অন্তত ২৫ টা ভুল করেছেন। কিন্তু সে অন্য কথা। বিবর্তন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জাকির নায়েক উত্তরের শেষাংশে অযাচিতভাবে সমকামিতাকে টেনে এনেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “একবার গবেষণায় দেখানো হলো: সমকামিতা জিনগত, অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, যদি সমকামিতা জিনগত হয়; তাহলে তো একে নিষিদ্ধ করা যাবে না, পাশাপাশি সমকামীদের ও কোনো দোষ নেই। কারণ এটা তাদের জন্মগত। আমি তাদের বললাম, দাড়াও অপেক্ষা করো। এর কিছুদিন পরে দেখা গেল, সমকামিতার সাথে জীনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং দেখা গেল, যে এ আবিষ্কারটা করেছে; সে নিজেই সমকামী।” এরপর জাকির নায়েক এক মুচকি হাসি দিলেন। দিয়ে বললেন, একশ বছর পরে হলেও বিবর্তন তীব্রভাবে ভুল প্রমাণিত হবে। (সমকামিতা সংক্রান্ত অন্যান্য প্রায় বক্তব্যে তিনি এই উদাহরণ দিয়েছেন)

পাঠক এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, এর গবেষক নিজে সমকামী হওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে এ হেন কাজ করেছেন। যদিও সেই গবেষকের নাম উচ্চারণ করা হয় নি। তবুও ধরে নেই, ১৯৯৩ সালে ডিন হ্যামারের গবেষণাটিকে ঈঙ্গিত করেছেন। মজার বিষয় হলো, ডিন হ্যামার যে কোনো ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন নি, তা রাষ্ট্রীয় ভাবে তদন্ত করেই দেখা হয়েছে। এরপর দুইটি গবেষণায় হ্যামারের বিপরীত ফলাফল আসলেও ২০১৪ সালে একটি বিস্তৃতপরিসরে করা গবেষণায় হ্যামারের ফলাফলকেই তা সমর্থন করে। সেই সময় থেকেই বৈজ্ঞানিক ও সচেতন মানুষের কাছে সমকামিতা যে জীনগত ব্যাপার তা মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের মানুষ সমকামিতার সাথে জিনগত সম্পর্ক আছে কি নেই, তা নিয়ে অর্ধসত্য জানলেও এটা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে গবেষণা কিন্তু থেমে নেই। সমকামিতার সাথে শরীরের প্রত্যঙ্গের সম্পর্ক, বড় ভাইয়ের সম্পর্ক, পারিপাশ্বিক সম্পর্ক, বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পর্ক ইত্যাদি ইত্যাদি গবেষণা হয়েছে। যার সিংহভাগই গেছে সমকামীদের পক্ষে। আজ আমাদের আলোচনার বিষয় সমকামিতার সাথে জীনগত সংযোগ কতটা তা নিয়ে। ২০১৪ সালের প্রখ্যাত গবেষণা থেকে এই বিষয়টা নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে, সমকামিতার সাথে জিনগত সংযোগ আছে; কিন্তু কোন জিন, তা এতকাল জানতেন না বিজ্ঞানীরা। তাই সাধারণ সমকামী বিদ্বেষী মানুষের কাছে; এ ছিল স্বস্তিদায়ক। কিন্তু বিধিবাম। একজন সমকামী বিদ্বেষী মানুষ মাত্রই তার কপালে চিন্তার বলিরেখা সৃষ্টি আর নতুন জ্ঞানকে সাদরে গ্রহণ করার মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছে এক নতুন তথ্য পুর্ব দিগন্তের আলোয় প্রতিভাত হয়ে উঠতে চলেছে। সেটা কি? দেখব আমরা প্রশ্ন-উত্তরের সাপেক্ষে।

সমকামিতা কি জৈবিক ভাবে পুর্ব নির্ধারিত?

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে পুরুষ সমকামী দের ক্ষেত্রে অনেক বেশি কমন দুইটি জিনের প্রকরণ পাওয়া গিয়েছে; যার উপর ভিত্তি করে বলা যেতে পারে, হ্যা পুর্ব নির্ধারিত।

কিন্তু আমরা তো জানতামই ”গে জিন” বলে কিছু একটার অস্তিত্ব আছে, তাই নয় কি?

আমরা প্রায় এক দশক ধরে জানতাম যৌন অভিমুখিতা পুরুষে আংশিক ভাবে বংশানুক্রমে আসে। এর জন্য আমাদের ১৯৯৩ সালের গবেষণাটিকে ধন্যবাদ না দিলেই নয়। যেখানে পরিবারকে ভিত্তি করে দেখানো হয়েছিল, কিছু লোক কিভাবে বিষমকামী, আর কিছু কেন সমকামী হয়। সেখানে দেখানো হয়েছিল যে এক্স ক্রোমোজমের এলাকাটির সাথে মানুষের সমকামী বা বিষমকামী হওয়ার একটা সংযোগ আছে। ১৯৯৫ সালে ৮ নং ক্রোমোজমে এক্সকিউ২৮ নামক এধরনের একটি এলাকা নির্ধারিত হয়। ২০১৪ সালে সমকামী ও বিষমকামী ভাইদের মধ্যে করা গবেষণা থেকে উভয় গবেষণাই এ তথ্যটিকে পুনঃনিশ্চিত করে। কিন্তু এই গবেষণাগুলো থেকে নির্দিষ্ট জিন কিন্তু শনাক্ত করা যায় নি।

তাহলে সাম্প্রতিক এই গবেষণায় নতুন কি আছে?

প্রথমবারের মত যৌন অভিমুখিতা বালক ও পুরুষে; গর্ভে ও জীবনকালে কিভাবে ক্রমবিকশিত হয় তা ব্যাখ্যা করতে পারে এরকম স্বতন্ত্র্য জিন আবিষ্কৃত হয়েছে।

তার মানে নির্দিষ্ট জিন আবিষ্কৃত হয়েছ, কিন্তু এই গবেষণা কিভাবে করা হয়েছে?

ইলিনয়ে অবস্থিত; নর্থ শোর বিশ্ববিদ্যালয়ের এলান স্যাণ্ডারস এবং তার সহযোগীরা এই জিনকে বাছাই করেন। তারা এর জন্য ১০৭৭ জন সমকামী ও ১২৩১ জন বিষমকামীর মধ্যে তুলনা করেন। তারা জিনোম ওয়াইড এসোসিয়েশন স্টাডিজ (GWAS) (ডিএনএ স্ক্যানিং এর পদ্ধতি) করেছেন। করেছেন পুরুষের পুরো জিনোমকে স্ক্যান, অন্বেষণ করেছেন, ডিএনএর ক্রমবিন্যাসে অন্তত একটি লেটার ও ভিন্ন কিনা। এই জন্য গবেষকরা, সেসব ব্যক্তির থেকে লালা বা রক্ত সংগ্রহ করেছেন। তারপর তাকে শ্রেণিবিন্যাসিত করেছেন। তারা পেয়েছেন, এই ভিন্ন প্রকরণ বিশিষ্ট দুটি জিন; যার সাথে যৌন অভিমুখিতার সংযোগ থাকতে পারে। কোন জিনদ্বয় তারা খুঁজে পেয়েছেন এবং সেগুলোর কি কাজ?

গবেষকরা পুরো ক্রোমোজম নিয়ে কাজ করার বদলে, ক্রোমোজমে এমন এলাকা খুঁজার চেষ্টা করেছেন, যেখানে বহুসংখ্যক multiple single nucleotide polymorphisms (ডিএনএ তে একক লেটার পরিবর্তিত) থাকে। এরকম এলাকা তারা পেয়েছেন ১৩ ও ১৪ নং ক্রোমোজমের উপর। ১৩ নং ক্রোমোজমের উপর অবস্থিত দৃঢ় সংযোগ টা পাওয়া গিয়েছে SLITRK6 এবং SLITRK5 জিনের মধ্যে। SLITRK6 হচ্ছে নিউরোডেভেলপমেন্ট জিন। এটা ডিয়েনসেফালন (মধ্যমস্তিষ্ক) নামক মস্তিষ্কের একটা অংশে সক্রিয়। মজার বিষয় হলো এই এলাকাটি হাইপোথ্যালামাসকে ধারণ করে। মজার, কারণঃ ১৯৯১ সালে দেখা গিয়েছিল সমকামী এবং বিষমকামীর মস্তিষ্কের এই অংশের যে আকার বা সাইজ তাতে পার্থক্য আছেসাইমন লিভ্যে এটি আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি সাম্প্রতিক এই আবিষ্কার দেখে বলেছেন যে, এই জিন আবিষ্কারের ফলে তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত কারণ এটা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তার আবিষ্কারটাও যথার্থই ছিল।

“অন্য আরেকটি গবেষণা থেকে পাওয়া গিয়েছে, এই SLITRK6 জিনটি, তা পুরুষ ইদুঁর ফিটাসের হাইপোথ্যালামাসে জন্মের কিছুদিন পুর্বে সক্রিয় হয়।” লিভ্যে আরো বলেছেন, “মস্তিষ্কের এই অংশে যৌনতার পার্থক্যকরণেরর জন্য একে বিবেচনা করা হয় অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ সময় হিসেবে। তিনি আরো বলেন, যৌন অভিমুখিতার ক্ষেত্রে নিউরোএনাটমী এবং আনবিক জীনগত ব্যবস্থায় এই সুনির্দিষ্ট সংযোগটি সম্ভাবনাময়। অন্য জিনটা কি?

অন্য জিনটা পাওয়া গিয়েছে ১৪ নং ক্রোমোজমে এবং এটি প্রধানত থাইরয়েডে সক্রিয়। একে বলা হয় TSHR (thyroid stimulating hormone receptor)। এটি একধরনের রিসেপ্টর প্রোটিন যা শনাক্ত ও আবদ্ধ করে একটি হরমোনকে যা থাইরয়েডকে উদ্দীপ্ত (stimulates) করে। এইভাবেই এই জিনটি থাইরয়েডের ফাংশন বা কার্যাবলীকে নিয়ন্ত্রণ করে। টিএসএইচআরের বিভিন্ন ধরনের সংযোগ আছে। যেমনঃ এর সাথে জড়িত হিপোপক্যাম্পাস (মস্তিষ্কের অংশ) শর্ট টার্ম মেমোরী (স্বল্প স্থায়ী স্মৃতিকে) দীর্ঘ স্থায়ী স্মৃতিতে পরিণত করে। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের প্রকৃতির সাথে এই জিন সংযুক্ত। ফ্যাক্ট হলো টিএসএইচআর; যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণে জড়িত এমন তথ্যের সাথে এই গবেষণার প্রতিবেদন মিলে যায়। জিনগত অবস্থা-গ্রেইভ ডিজিজের কারণে টিএসএইচআরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়; এটি হলো স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা থাইরয়েড গ্রন্থিকে অতি সক্রিয় করে তুলে। এরফলে বিপাকীয় ক্রিয়ার হার বেড়ে যায় এবং ওজন হ্রাস পায়। গ্রেইভ ডিজিজ বিষমকামী পুরুষদের তুলনায় সমকামী পুরুষে বেশি দেখা যায় এবং কিছু গবেষণা দেখিয়েছে যে, সমকামী পুরুষরা বিষমকামী পুরুষদের তুলনায় অধিক কৃশকায় (শুকনো) হন। এটা হতে পারে; থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তার কারণে। গর্ভবতী মায়ের থাইরয়েডে ত্রুটি দেখা গেলে, সন্তানের পরবর্তী সময়ে সমকামী হবার সম্ভাবনা থাকতে পারে – এরকমটাও একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে। এই সমস্ত প্রাপ্ত তথ্যকে পর্যালোচনা করে এটা প্রায় নিশ্চিয় যে; সমকামিতার সাথে থাইরয়েড গ্রন্থিতে সক্রিয় জিনের একটা সম্পর্ক আছে।

তার মানে যেসব পুরুষ এই গে জিন বহন করছে, তারা সবাই সমকামী???

অবশ্যই না। – স্যান্ডারস। তিনি আরো বলেন, না, কারণ আরো অন্যান্য বিষয় যেমন পরিবেশ এই অভিমুখিতা নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। এ ছাড়াও আরো অসংখ্য জিন একত্রে এই অভিমুখিতা নির্ধারণের জন্য হয়তো কাজ করছে। এছাড়াও হয়তো আরো পুরুষ আছে, যাদের এই জিন আছে, এবং তাদের সমকামী হবার সম্ভাবনাও থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সমকামী হন না। কারণ অন্যান্য জিন ও আরো কিছু ফ্যাক্টর এই যৌন অভিমুখিতা নির্ধারনে প্রভাব ফেলে। এটা থেকে পরবর্তীতে হয়তো ব্যাখ্যা করা যাবে মানুষ উভকামী কেন হয়।

নারীদের ক্ষেত্রে কি বলব? এখন কি আমরা এটা বলব, “লেসবিয়ান জিনের” ও অস্তিত্ব আছে?

নারীর সমকামিতার বিষয়টি; জীববৈজ্ঞানিক আতশ কাচ দিয়ে দেখার ক্ষেত্রে গবেষণা গুলো এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। এর জন্য কিছু গবেষক, যেসব নারীরা সমকামী; তাদের বাস্তবে যৌনতার তারল্য প্রদর্শন করতে বেশি দেখা যায়– এই বিষয়টিকেই দায়ী করেছেন। কারণ এর ফলে নারী সমকামিদের উপর করা গবেষণা গুলো জটিল হয়ে যাবে। যদিও গবেষণা থেকে দেখে গিয়েছে, নারীদের সমকামিতার পিছনে জিনগত কারণ বর্তমান।

স্যান্ডারস বলেছেন, গবেষণা আছে, যেখান থেকে বলা যায়, নারীর সমকামী হবার পছনে জীনগত কারণ আছে। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের গবেষণা অধিক হারে করা হয়েছে - এটা সত্যি।

সমকামিতা জিনগত হলেই এত হইচইয়ের কি আছে?

ইউএস ন্যাশনাল ইন্সটিউট হেলথের ডিন হ্যামার বলেছেন, এই সর্বশেষ অন্বেষণটি সমকামী এবং বিষমকামীদের যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণে যে জিনের ভুমিকা থাকতে পারে, তাই নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে আমরা আরো একধাপ এগিয়ে বলতে পারি যে সমকামিতা কারো ইচ্ছাকৃত লাইফস্টাইল নয়। তবে এই গবেষণার সবচেয়ে তাৎপর্যের জায়গাটা হলো, মানুষের যে নানা বৈচিত্র্য আছে; সে জায়গাটি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠল।

এই গবেষণার যে ফলাফল বের হয়ে এসেছে, তা কি নিশ্চিত ভাবে সত্যি?

এই গবেষণার গবেষকদের মতে এই অন্বেষণ চিত্তাকর্ষক। এবং এর ফলে সমকামী পুরুষ মানুষদের যৌন অভিমুখিতা বুঝার ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন তথ্য। কিন্তু তবুও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। প্রথমে আসা যাক এর স্যাম্পল সাইজ নিয়ে। জিনগত বিশ্লেষণে যে পরিমাণ স্যাম্পল কে আদর্শ ধরা হয়; এখানে তা করা হয় নি। ফলে স্যাম্পলের সংখ্যা বিতর্কিত। আবার স্যাম্পল হিসেবে শুধুমাত্র ইউরোপীয় বংশধরদের বাছাই করা হয়েছে। এছাড়াও বিবিসির প্রতিবেদন থেকে দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ পিয়ার রিভিউড ফলাফল, পরবর্তী গবেষণায় রেপ্লিকেটেড বা প্রতিলিপিত হয় না। তাই এই গবেষণাটির ফলাফল সত্য কিনা তা নির্ধারিত হবে, পরবর্তী গবেষণা গুলোর ফলাফল থেকে।

এই গবেষণার সাথে জড়িত নয়; কিন্তু এই বিষয়গুলোর উপর বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন?

ফ্রান্সিস ক্রিক ইন্সটিউটের অধ্যক্ষ রবিন লোভেল ব্যাজ বলেছেন, “এই পেপারের বিষয়টা খুবই গুরুত্বপুর্ণ; কারণ এর মাধ্যমে আমরা আরো বুঝতে পারছি, জিন আমাদের ব্যবহারকে কতটা প্রভাবিত করে; কিন্তু সর্বজন বিদিত যে, এই ধরনের গবেষণা কতটা কঠিন। এমনকি যদি একটি জিনের প্রকরণের সাথে কারো যৌন অভিমুখিতার সম্পর্কের আন্তঃসংযোগ দেখা যায়, তার মানে এই নয় যে, তার সমকামী হবার পিছনে সে জিন দায়ী। এটার শুধুমাত্র অর্থ হল কিছু মানুষের যৌন পরিচয়ে নির্ধারণে এর সংযোগ আছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পারিসংখ্যানিক জিনের অধ্যক্ষ গিল ম্যাকভ্যান বলেছেন, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে অথবা সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ে এটি গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, যৌনতা বিভিন্ন বিষয় যেমনঃ পরিবেশ, অভিজ্ঞতা এবং অভ্যন্তরীণ জৈবনিক কারণে প্রভাবিত হয়।

যাই হোক, আলোচনা সমালোচনা কে ধর্তব্যের মধ্যে নিলে এটা বলা যায়, এই গবেষণা থেকে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না, সমকামিতার সাথে জীনগত সংযোগ বিদ্যমান। কিন্তু এই গবেষণাটি থেকে যে তথ্য বের হয়ে এসেছে; তা উপেক্ষা করাও দুরুহ। তাই বলা যেতে পারে, এটি একটি সুচনা গবেষণা, যা ভবিষ্যত গবেষকদের কাছে নতুন করে এ বিষয়ে গবেষণা করার জন্য যোগাবে মানসিক রসদ।

এই পোস্টটি লিখার ফরম্যাটের কিছু অংশ নিউসায়েন্টিস্টের লেখার ফরম্যাটকে অনুসরণ করে করা হয়েছে।






-----------------------------------------------------
তালিকায় ফিরে যান
মূল পাতা
আমাদের সম্বন্ধে
সম্পাদকের বক্তব্য
তথ্য ভান্ডার
সৃজনশীলতা
সংবাদ
স্মৃতি চারণ
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
জরুরী আবেদন
নিবন্ধ
দন্ডবিধি