ইসলামের ইতিহাসে গোপন সমকামিতার নিদর্শন
জো মর্গান (সম্পাদক, গে স্টার নিউজ)

গে স্টার নিউজ (GayStarNews) ওয়েব পাতায় এই চাঞ্চল্যকর লেখাটি প্রকাশ করা হয় ১৩ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে। লেখক জো মর্গান (Joe Morgan) এই পত্রিকার একজন সম্পাদক এবং ফ্রান্সে বাসরত একজন সমকামী ইমাম লুডভিচ-মোহাম্মদ জাহেদের সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে এই লেখাটি গবেষনা করে প্রকাশ করেন। আমি তার অনুবাদ করলাম এখানে। আর ইংরেজী লেখাটার লিঙ্কটা এখনই দেয়া হল।

The secret gay history of Islam
-----------------------------------------------------

মুসলমান সংষ্কৃতিগুলোতে সমকামিতাকে এক সময়ে অত্যন্ত স্বাভাবিক বলে ধারনা করা হত – এর পরিবর্তন হল কিভাবে?

ইসলাম ধর্ম এককালে সমকামিতাকে দুনিয়ার একটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার বলে গন্য করতো। অটোমান সাম্রাজ্য, যা ছিল এককালিন মুসলমান দুনিয়ার ক্ষমতা কেন্দ্র, কখনই পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে সমকামিতাকে নিষিদ্ধ মনে করেনি। ১৮৫৮ সালে তারা এটিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে অনপরাধ হিসেবে ঘোষনা দেয়। কিন্তু খৃষ্ট ধর্মালম্বীরা তাদের ঔপনিবেশিক শাসন নিয়ে এসে আস্তে আস্তে ইসলাম ধর্মে সমকামভীতি ছড়িয়ে দেয়। এটাই সত্যি যে আজকে অনেক মুসলমানরাই বিশ্বাস করে যে নবী মুহাম্মদ (সঃ) তার জীবনে যৌন এবং লিঙ্গ সংখ্যালঘুদের সমর্থন এমন রক্ষণাবেক্ষণ করতেন।

১) ইসলাম ধর্ম প্রাচীন গ্রীকদের কাছ থেকে বালক প্রেমের রীতি অনুকরণ করেছিল

বিভিন্ন মুসলমান সাম্রাজ্য যেমন অটোমান, সাফাভিদ/গাজার, মোঘল ইত্যাদি একটি সর্বজনীন সংষ্কৃতির আওতায় ছিল। এবং প্রাচীন গ্রীক সভ্যতার সাথে তার অনেক মিল ছিল। মুসলমান পারস্য সভ্যতা ভারত উপমহাদেশ এবং আরব দুনিয়ার উপর এককালে অনেক প্রভাব খাটিয়েছিল। এবং এই সকল সমাজে একজন বয়স্ক পুরুষরা প্রায়ই দাঁড়িবিহীন অল্প বয়সের ছেলেদের সাথে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হত। এই সব ছেলেদেরকে বলা হত ‘আম্রাদ’।

আবার এই আম্রাদরাই প্রাপ্তবয়সে দাঁড়ি (বা ‘খাট’) গজিয়ে আবার তাদেরই অন্য বালকের বাসনা পূর্ন করতো। এবং এই সময়ের মধ্যে জন্মদানের দায়িত্ব পালন করে তারা অপেক্ষাকৃত অল্প বয়সের ছেলে অথবা বেশ্যা বা অন্য নারীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো। সমাজ এই ব্যাপারটা সম্পূর্ন ভালভাবেই গ্রহন করতো, অন্তত পক্ষ্যে তার উঁচু স্তরে। পারস্য ইতিহাসবিদ আফসানেহ নাজমাবাদী লিখেছেন কি ভাবে সাফাভিদ ঘটনাপঁজী-লেখকরা বিভিন্ন শাহদের যৌন জীবন কোন প্রকার মূল্যায়ন ছাড়াই নথিবদ্ধ করেছেন।

তবে ‘মুখান্না’-দের নিয়ে কিছু সংশয় ছিল। এরা ছিল রূপান্তরকামী অথবা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। তারা তাদের দাঁড়ি চেছে প্রকাশ করতো যে তারা অন্য পুরুষের কাম বা বাসনার বিষয়বস্তু হতে চায়। কিন্তু সমাজে তাদেরও যোগ্য স্থান ছিল। তাদেরকে হয় দাস হিসেবে রাখা হতো অথবা তাদেরকে উপাসনা করা হত। জিএসএনকে দেয়া একটি বিবৃতিতে লুডভিচ-মোহাম্মদ জাহেদ – একজন সমকামী ইমাম যিনি ফ্রান্সের মারসেইল শহরে বাস করেন – বলেছেন “এটাকে আজকের সমকামিতার মত করে বলা যাবে না। এটা ছিল পুরুষতান্ত্রিকতা। এটার মনোভাব ছিল অনেকটা এরকম – আমি একজন পুরুষতান্ত্রিক মানুষ (পুঃ), আমার আছে ধন-সম্পদ, অতএব আমি আমার ইচ্ছা মত বালক, দাস-দাসী এবং অন্যান্য মহিলাদের ধর্ষণ করবো। তবে এই প্রাচীন সমাজের রীতিগুলোকে আমাদেরকে আদর্শভাবে দেখতে হবে এমন কোন কথা নেই”।

২) জান্নাতে শুধু হুর (স্ত্রীঃ) নয়, গেলমানও (পুঃ) আছে

কোরান শরীফে কোথাও উল্লেখ নেই যে বেহেস্তে শুধু মেয়ে কুমারীরাই আছে। হুররা মেয়ে, কিন্তু তাদের প্রতিরুপ গেলমানরাও আছে যারা ছেলে এবং আজীবন বেহেস্তবাসীদের সেবা করার জন্য অপেক্ষা করছে। কোরানে বলা আছে – “অমর (পুরুষ) নবীনরা তাদের ঘিরে রাখবে, তাদের জন্য অপেক্ষা করবে। যখন তাদেরকে দেখবে, মনে করবে তারা ছড়ানো মুক্তার গুচ্ছো।

জাহেদ বলেছেন যে প্রাচীন মুসলমান সমাজগুলোকে সেই গ্রীক সভ্যতার মত করেই দেখতে হবে। “আম্রাদরা ঠিক আত্ম-সন্মতিতে সেখানে যৌনাচারে লিপ্ত হয়নি, এবং তার কারন উপর থেকে আসা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রন এবং চাপ। কিন্তু ব্যাপার এখানে বর্তমান দুনিয়ার মত বিষমকামীদের রীতির মত ছিল না। এখানে ছিল যৌনতার প্রাচুর্যে ভরা বিভিন্ন রূপ।

৩) ইসলাম ধর্মে সমকামভীতির জন্য সডম এবং গমোড়াকে দায়ী করা যাবে না।

বাইবেলের মত কোরান শরীফেও সৃষ্টিকর্তা কিভাবে সডম নগরীকে ধ্বংস করে দেয় তার বিবরন দেয়া আছে। সেই নগরীতে দুইটা ফেরেস্তা আসে এবং লুত (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করে। লুত (আঃ) তাদেরকে রাতে থেকে যাওয়ার নিমন্ত্রন করে। সেখানকার অন্য পুরুষরা এই ব্যাপার জানতে পারলে তারা সেই দুই অতিথিদের জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। অনেকেই এই ঘটনার আদলে সমকামীদের ঘৃণা করার যৌক্তিকতা প্রকাশ করে। কিন্তু এটা ভুল। এই নগর পরে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারন সেই ধর্ষণ, হিংস্রতা এবং অথিতিপরায়ন হতে অপারগ হওয়া।

অনেক ইতিহাসবিদরা বিভিন্ন বিষয়ের প্রমান খুজে পাওয়ার জন্য আগেকার দিনের লেখনীর দিকে মনোযোগ দিয়ে থাকে। এবং মুসলমান সংষ্কৃতিতে পাওয়া অনেক কবিতাগুলোর মধ্যে দুই পুরুষের মধ্যেকার প্রেমের গল্প খুঁজে পাওয়া যায়। কোন যুবককে যে জোর পূর্বক যৌনভাবে আক্রমন করা যাবে না তার নথিও পাওয়া গেছে। ইতিহাসবিদ নাজমাবাদীর লেখা অনুযায়ী গাজারদের আমলের ইরানে একটা যুবককে ধর্ষণ করার শাস্তি ছিল ধর্ষকের পায়ে বেত্রাঘাত অথবা তার কান কেটে ফেলা।

৪) মেয়েদের সমকামিতাকে একটি রোগের নিরাময় হিসেবে গন্য করা হত

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ হওয়ার কারনে আমরা প্রাচীন মুসলমান দুনিয়ার মেয়েদের সমলিঙ্গীয় সম্পর্ক সম্বন্ধে কম জানি। তবে এই সম্পর্কের হদিস হিসেবে আমরা ‘সিহাক’ শব্দটা জানি যার অর্থ মার্জন। দুই মহিলার মধ্যে সম্পর্ককে অটোমান সাম্রাজ্য অনপরাধ হিসেবে ঘোষনা দেয়া ১৬শ শতাব্দীতে। এর কারন হয়তো এই, যে এরকম সম্পর্কের তেমন কোন তাৎপর্য বা গুরূত্ব ছিল না। তখনকার ডাক্তাররা বিশ্বাস করতো যে নারীদের সমলিঙ্গীয় যৌনাচারের আবির্ভাব হচ্ছে তাদের স্ত্রিযোনিদ্বারে এক প্রকার চুলকানীর কারনে যা একমাত্র আরেক নারীর যৌন রসের মাধ্যমে মোলায়েম করা যায়। এটা গ্রীকদের ডাক্তারী বিজ্ঞান থেকে অনুধাবন করা হয়।

অনেক পরে ১৬শ শতাব্দীর একজন ইতালীয় বিজ্ঞানী প্রসপের আলফীনি দাবী করেন যে আলোচ্য সমাজগুলোর উষ্ণ আবহাওয়া মেয়েদের মধ্যে বাড়তি যৌন বাসনা এবং অস্বস্তির সৃষ্টি করে। এর ফলে পালটা তাদের মগজে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয় যার পরিণতি সেই সমলিঙ্গীয় আচরন। তিনি এটার নিরাময় হিসেবে স্নানের সুপারিশ করেন। কিন্তু অনেক পুরুষরা ভয় পেতো যে তাদের নারীরা গন-স্নানের সময়ে একজন আরেকজনের সাথে যৌনাচারে লিপ্ত হবেন। তাই তারা তাদের স্ত্রীদেরকে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতেন।

৫) মহিলাদের বিয়ে এবং বিখ্যাত যুগল

আরবদের লোকাচারে আল-জারকা আল-ইয়ামামা (“ইয়ামামার নীল চক্ষুর নারী”) লক্ষমীদদের এক খৃষ্ট রাজকুমারী যার নাম হিন্দ, তার প্রেমে পড়েন। যখন আল-জারকা – যিনি ভবিষ্যত বলতে পারতেন – ক্রুশ করা হল, তখন জানা গেছে যে হিন্দ তার সমস্ত চুল কেটে ফেলে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শোক প্রকাশ করতে থাকেন।

১০শম শতাব্দীর অনেক বইয়ে নারী যুগলদের সন্মান খুঁজে পাওয়া যায়। সালমা এবং সুভাদের বইয়ে সাফিক যুগের নারীদের প্রেমের গল্প পাওয়া যায়। আরো পাওয়া যায় সওয়াব ও সুরু এবং আল-দাহমা ও নিসমার বইয়ে। জাহেদ বলেন – “বিভিন্ন প্রাসাদে নারীদের মধ্যে সঙ্গমের প্রমান পাওয়া যায়। দুইটা নারী একজন আরেকজনকে রক্ষণাবেক্ষন করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হতেন। অনেকটা বিবাহের মতই”। তিনি আরও বলেন – “প্রাসাদগুলোর বাইরেও এর ছিল অনেক উদাহরন। সাফিক যুগের অনেক কবিতাতেই এই সব সমলিঙ্গীয় বাসনার কথা উল্লেখ ছিল।

ইউরোপীয়রা এই অঞ্চলগুলো তাদের ঔপনিবেশিক শাসনামলে নিয়ে আসলে নারীদের সমপ্রেমের বিবরন বদলে যায়। সামার হাবীব, যিনি আরবীয় মুসলমানদের ইতিহাস পড়েছেন, বলেন যে আরব উপন্যাস ‘এক হাজার এক রাত’ এটার প্রমান দেয়। কিছু গল্পে এক অমুসলমান নারী অন্য আরেক নারীকে যৌনভাবে পছন্দ করলেও গল্পের এক নায়ক পরে এই নারীদেরকে ইসলামে ধর্মান্তর করে এবং বিষমকামী বানানোর চেষ্টা করে।

৬) নবী মুহাম্মদ (সঃ) তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের রক্ষণাবেক্ষণ করতেন

জাহেদ বলেন – “নবী তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের আশ্রয় দিতেন এবং তাদের দেখাশোনা করতেন। ভিন্ন যৌনতার মানুষদের তিনি স্বাদরে আমন্ত্রন করতেন। যদিও সমকামীদের হত্যা করার রীতি এখন বিদ্যমান, আমরা ঐতিহ্যের দিকে তাকালে দেখি যে নবী ছিলেন অনেক অন্তর্ভুক্তশীল। তিনি যারা তাদের প্রতি হিংস্রতা দেখাতে চেয়েছে ও তাদেরকে হত্যা করতে চেয়েছে, তাদের হাত থেকে তাদেরকে বাচিয়েছেন”।

৭) পুরুষতান্ত্রিকতা কিভাবে ইসলামকে বদলে দেয়

ইউরোপীয়রা মুসলমান দুনিয়ায় ভারত এবং মিশরে পূর্নাঙ্গ ঔপনিবেশিকতা নিয়ে অথবা অটোমান সাম্রাজ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক আগ্রাসন নিয়ে হাজির হয়। তারা তাদের রীতিনীতি এবং চিন্তাভাবনা বশ করা মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয় – আধুনিক যুগের ইসলামী মৌলবাদ এর থেকেই উত্তরন করে। অটোমান সাম্রাজ্য প্রথমে ইউরোপীয়দের এই সাংষ্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও পরে সেই সাম্রাজ্য ভেঙ্গে গিয়ে নতুন দেশের আবির্ভাব হয় ইউরোপীয়দের ছত্রছায়ায়। এবং ১৮৭০ সালে ভারত উপমহাদেশে সমকামিতাকে একটা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যার ফলশ্রুতিতে সেখানকার যৌন সংখ্যালঘুরা এখনও অমানবিক জীবন যাপন করছে।

কিন্তু উপনিবেশ হয়ে যাওয়ার তাৎপর্য কি? এবং সেখানে সমকামভীতি এতো চুড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেলো কেনো? জাহেদ বলেন – “পশ্চিমারা এসে আমাদেরকে বলে আমরা নাকি অলস, অক্রিয় এবং দূর্বল। আরব পুরুষ হিসেবে আমাদেরকে আরও শক্তিশালী, বীর্যবান এবং পুরুষোচিত হতে হবে। জার্মান ইতিহাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হারার পর তাদের জাতীয়তাবাদের লেবাসে আমরা ঠিক এরকম দেখতে পাই। এটাকে এক প্রকার ট্রাইবালিজম বলা যায়। আমার গোত্রের বাইরে আমি অন্যকে হত্যা করবো। আমি দূর্বলদেরকে হত্যা করবো। যারা এই আগ্রাসনভিত্তিক এবং গোত্রভিত্তিক ধারনাকে পরিপূর্ণ করবে না তাদেরকে আমি শেষ করে দেবো”।

৮) মুহাম্মদ (সঃ) যৌন সংখ্যালঘুদের নিয়ে আজ কি ভাবতেন?

নবী (সঃ) যৌন এবং লিঙ্গ সংখ্যালঘুদের দেখে রাখতেন, যারা সমাজের প্রান্তিকে আছে তাদের সমর্থন দিতেন। এবং মুসলমানরা যদি প্রাচীন মুসলমান সংষ্কৃতি এবং নবীর জীবনকে অনুসরন করে তাহলে ধরে নেয়া যাবে যে ইসলামে যৌন সংখ্যালঘুদের বিরোধিতা করার কোন কারন নেই। একজন ইমাম হিসেবে জাহেদ মনে করেন যে এটাই একজন সত্যিকারের মুসলমান হওয়ার পরিচয়। “আমরা নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবী করলে আমাদের এখন কি করণীয়? আমাদেরকে মানবাধিকার এবং বৈচিত্রকে রক্ষা করতে হবে। মানুষের বিভিন্ন পরিচয়গুলোকে শ্রদ্ধা করতে হবে। আমরা যদি আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বাস করি, তাহলে জানতে হবে যে আমাদের নবী সক্রিয়ভাবে যৌন ও লিঙ্গ সংখ্যালঘুদের এবং মানবাধিকারকে পালন করতেন”।

সম্পাদকের মন্তব্যঃ

প্রচ্ছদের ১ নম্বর অনুচ্ছেদে বাল্য প্রেমের যে বিবরনটি দেয়া আছে তার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট করে বলে দেয়া দরকার যে সেই প্রথা প্রাপ্তবয়স্ক এবং পরষ্পর সন্মত সমলিঙ্গীয় যৌনাচার এবং ভালবাসা থেকে যথেষ্ট ভিন্ন। এবং কোনভাবেই সমকামী অধিকার কর্মী হিসেবে সেই ধরনের যৌনাচারকে সমর্থন করা যাবে না। সেখানে নিয়ন্ত্রন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বিদ্যমান। তবুও যে সকল ধর্মীয় অনুশাসনের দোহাই দিয়ে আমরা আজ মুসলমান সমাজে যে সমকামভীতি এবং শাস্তির যুক্তি দেখি, তা যে সম্পূর্ন ভাওতাবাজী তাই এই লেখাটা গবেষনা করে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছে।

এখানে আরেকটা কথা না বললেই নয়। কোরান শরীফে সমকামিতার কোন বিশেষ শাস্তির কথা উল্লেখ নেই। লুতের কাহিনী বর্ণিত আছে কিন্তু সেই শহর পরষ্পর সন্মত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সমকামিতার জন্য ধ্বংস করা হয়েছিল না কি পুরুষ ধর্ষনের জন্য করা হয়েছিল তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে সমকামিতার জন্য শাস্তির বিধান পাওয়া যায় হাদিসে, যা নবীর মৃত্যুর দুইশত বছর পর সংকলিত করা হয়। এতে তার অকৃত্রিমতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ থাকে। এর পর সমকামিতার শাস্তি একেক সময়ের একেক মুসলমান সমাজ একেক ভাবে নির্ধারণ করেছে (যার সব চেয়ে জঘন্নতম নমূনা আমরা সম্প্রতি দেখেছি মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক স্টেটে যেখানে সমকামীদেরকে ধরে ধরে উচু দালান থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে)। কিন্তু তার কোনটিও তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের দন্ডবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, করতে দেয়াও যাবে না কোন দিন। বিলেতিদের ঔপনিবেশিক শাসনামল থেকে উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া বর্তমান দন্ডবিধি অনুযায়ী সমকামিতার জন্য দশ বছর কারাদন্ড এবং/অথবা জরিমানার ব্যাবস্থা রয়েছে। কিন্তু এটার পরিণাম হচ্ছে যে সমকামীরা জন্মগত ভাবেই অপরাধী এবং ধর্মীয় মৌলবাদী অথবা পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব দ্বারা কেউ হুমকির মুখে পড়লে পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে কেউ নিরাপত্তা চাইতে পারে না।





-----------------------------------------------------
তালিকায় ফিরে যান
মূল পাতা
আমাদের সম্বন্ধে
সম্পাদকের বক্তব্য
তথ্য ভান্ডার
সৃজনশীলতা
সংবাদ
স্মৃতি চারণ
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
জরুরী আবেদন
নিবন্ধ
দন্ডবিধি