স্বাধীনতা
স্বধু

২৮ ডিসেম্বর ২০১৭



স্বাধীনতা হলো বাক ও মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা, নিজস্ব বিশ্বাস আর উপায়ে ঈশ্বরের উপাসনা আর ধর্ম পালন করা বা না করার স্বাধীনতা, সব নাগরিকের যে কোন সুযোগের সমতা, আইনী অধিকারের সমান বণ্টন আর নিরপেক্ষ আদালতের সুবিধা পাওয়া, মতের বিরুদ্ধে গেলে বিশেষ কোন দলের ‘স্বাধীনতা বিরোধী’ উপাধি না পাওয়া একই সাথে যাকে তাকে ‘নাস্তিক’ বলার অধিকার না থাকা, নাগরিক হিসাবে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিরাপত্তা থাকা, স্বাধীনতাকে বিশেষ কোন দলের নিজস্ব সম্পত্তি না ভাবার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা: ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষনা দেয়া হয়। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ১৬ই ডিসেম্বর।

বাংলাদেশের আইনে ৩৭৭ ধারা: বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারা আমাদের পবিত্র মহান সংবিধানের, ৭(২), ৭(খ), ১৯(১) ও ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমঅধিকার, সমসুযোগ, আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, স্বাভাবিক বিচার ও আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকারের সুস্পষ্ট লংঘনকারী।

৩৭৭ ধারা: ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী যে ব্যাক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে কোন পুরুষ, নারী বা জন্তুুর সহিত প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যৌনসহবাস করে সেই ব্যাক্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে বা বর্ণনার কারাদন্ডে - যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তদুপরী অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে। এ ধারায় সাধারন শাস্তির বিধান করা হয়েছে এবং তা অবশ্যই প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে হতে হবে।

দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বা দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা যদি স্বেচ্ছায় নিজেদের সম্মতিতে যৌনসহবাস করেন তবে সেটা বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হয়।

দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা নিজেদের সম্মতিতে যৌনসহবাসকারীদের সমকামি পুরুষ ও সমকামি মহিলা বলা হয়। এরা যৌন সংখ্যালঘু। এদেরকে একত্রে ইংরেজীতে এলজিবিটিকিউআই জনগোষ্ঠী বলা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীর প্রায় ১০ শতাংশ এই মানুষ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত৷

বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে সমকামিতা একটি জিনগত বৈশিষ্ট্য৷ বিজ্ঞানী হ্যামার X ক্রোমোজোমের Xq28 স্থানে একটি মার্কারের অস্তিত্ব পেয়েছেন যা কিনা সমকামী হওয়ার জন্য দায়ী। অর্থাৎ, বিজ্ঞান এটা প্রমাণ করেছে যে সমকামিতা কোন মানসিক বিকৃতি বা অপ্রাকৃতিক নয়, বরং সমকামিতা স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক।

পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্য ও উন্নত দেশগুলোতে যৌন সংখ্যালঘুদের সমঅধিকার ও সমকামী বিয়ে বৈধতা দেয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে এটাকে আইন বিরুদ্ধ বলা হয়েছে। বাংলাদেশে এই স্বাভাবিক যৌন প্রবৃত্তি আইন বিরুদ্ধ হওয়ার প্রধান ভূমিকা পালন করছে ধর্ম। বাংলাদেশ নিরপেক্ষতা হারিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান রাষ্ট্র হিসাবে পরিণত হয়েছে। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানেরা তাঁদের ধর্মের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের কারনে অন্যান্য মানুষদের ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন।

বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারা উচ্ছেদ করে ব্যক্তিস্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবাধিকার রক্ষা করা হোক।
মানবতার জয় হোক।





-----------------------------------------------------
তালিকায় ফিরে যান
মূল পাতা
আমাদের সম্বন্ধে
সম্পাদকের বক্তব্য
তথ্য ভান্ডার
সৃজনশীলতা
সংবাদ
স্মৃতি চারণ
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
জরুরী আবেদন
নিবন্ধ
দন্ডবিধি